Languages

বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান

চেক, পিন নম্বর এটিএম কার্ড

এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) :

এটিএম বলতে বুঝায় অটোমেটেড টেলার মেশিন। এটিএম দিয়েকোন মানুয়ের সহায়তা না নিয়েই ব্যাংক বিল্ডিং এর বাইরে যেকোন স্থানে ব্যাংকের একজন হিসাবধারী যেকোন সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা উঠানো,ব্যালেন্স অনুসন্ধান, মোবাইল পেমেন্ট, ব্যালেন্স ট্রান্সফার, মিনি একাউন্ট স্টেটমেন্ট প্রিন্ট প্রভৃতি কাজ করতে পারে। এটিএমে কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর যন্ত্রের মাধ্যমে ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ বা চিপ প্রযুক্তি যুক্ত প্লাস্টিক কার্ডের দ্বারা লেনদেন করা হয়।

বর্তমানে এটিএম সার্ভিস ব্যাংকিং খাতের এক জনপ্রিয় প্রদান মাধ্যম হিসাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সমস্ত আন্তঃব্যাংক এটিএম সুইচকে সমন্বিত করে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) চালু করেছে। অর্থাৎ যে কোন ব্যাংকের এটিএম হতে অন্য ব্যাংকের হিসাব হতে টাকা উঠানোসহ অন্যান্য কাজ করা যাবে। দেশে কিছু বেসরকারী উদ্যেগে প্রাতিষ্ঠিত সুইচ এটিএম সেবা প্রদান করছে যেমন –Omnibus, Q-Cash, Cash link উলেস্নখযোগ্য। বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে এটিএম সেবা চালু রয়েছে।

 

কে এটিএম ব্যবহার করতে পারবে :

 

  • ব্যবহারকারীকে অবশ্যই কোন বানিজ্যিক ব্যাংকের হিসাবধারী হতে হবে।
  • গ্রাহককের অনুকুলে তার ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত প্লাস্টিক কার্ড(ডেবিট/ক্রেডিট/প্রোপাইটরী) থাকতে হবে।
  • গ্রাহকের একটি পিন (পার্সনাল আইডেনটিফিকেশন নম্বর) থাকতে হবে।

এটিএম ব্যবহারের পদ্ধতি :

  • প্রথমে এটিএম বুথে গিয়ে এটিএম মেশিনের নিদিষ্ট স্থানে গ্রাহকের কার্ডটি প্রবেশ করাতে হবে
  • স্বয়ংক্রিয় ভাবে এটিএম মেশিনের স্ক্রিনে কার্ডধারীর পিন চাওয়া হবে।
  • তারপর পিনটি প্রবেশ করালে লেনদেন কার্যক্রম শুরু হবে।
  • স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানতে চাওয়া হবে গ্রাহক কি ধরনের লেনদেন করতে চায়।
  • তারপর সেই ধরনের নির্দেশ প্রদান করে লেনদেন করতে হবে।
  • আর কোন লেনদেন করতে হবে কিনা তা জানতে চাওয়া হবে।
  • লেনদেন শেষ করার সাথে সাথে কার্ডটি বের হয়ে আসবে।

এটিএম হতে যে সকল সেবা প্রদান পাওয়া যায়ঃ

  • টাকা উঠানো/জমা দেওয়া।
  • ইউটিলিটি বিল প্রদান করা যায়।
  • কাস্টমারের একাউন্ট থেকে অন্য একাউন্টে ব্যালান্স ট্রান্সফার করা যায়।
  • ব্যালেন্স অনুসন্ধান
  • মোবাইল পেমেন্ট

এটিএম ব্যবহারের সুবিধা :

  • ২৪ ঘন্টা দিনে এবং বছরে ৩৬৫ দিন সেবা পাওয়া যায়।
  • নগদ টাকার ব্যবহার কম হয়।
  • কোনরকম ঝামেলা ছাড়াই সহজে টাকা উত্তোলন করা যায়।
  • নগদ টাকা হাতে ধরে রাখার প্রবনতা কমে আসবে।
  • টাকা বহনের ঝুঁকি কম।
  • এনপিএসবি এর মাধ্যমে এক ব্যাংকের কাস্টমার আরেক ব্যাংকের এটিএম বুথ ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন, ব্যালেন্স অনুসন্ধান এবং মিনি স্টেটমেন্ট নিতে পারে।
  • এটিএম এ বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং এবং ব্যালান্স ট্রান্সফার করা যায়।
  • এটিএম ব্যবহারে যে সকল সমস্যা হতে পারে :
  • কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যাবহারের কারনে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
  • সিস্টেমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • বৈদ্যূতিক সমস্যার কারনে লেনদেন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমানের বেশী টাকা উঠানো যায় না।
  • ঈদ উৎসবে এটিএমএর মাত্রাতিরিক্ত ক্যাশ উত্তোলনের কারনে বুথে টাকার স্বল্পতা দেখা যায়।

এটিএম একটি জনপ্রিয় আধুনিক ব্যাংকিং সেবা যা দ্রুতই প্রসার হচ্ছে। এটিএম সেবা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেক্টর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহযোগিতা করছে। আর্থিক সেবাভুক্তিতে এটিএম একটি অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।